কাবীরা (বড়) গুনাহ

কবীরা (বড়) গুনাহ কাকে বলে ?
কাবীরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্মসমূহকে যেগুলোতে নিম্নোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যায় ঃ
১. যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়াতে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
২. যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দন্ড প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে ।
৩. যে সকল কাজে আল্লাহ রাগ করেন।
৪. যে সকল কাজে আল্লাহ, নবী, ও ফেরেশতামন্ডলী লা’নত/অভিসম্পাত দেন।
কাবীরা (বড়) গুনাহ
১। আল্লাহর সাথে শিরক (অংপন) করা ।
২। সালাত পরিত্যাগ করা ।
৩। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ।
৪। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা ।
৫। পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা ।
৬। যাদু-টোনা করা ।
৭। ইয়াতীমের সম্পদ আত্নসাত করা।
৮। জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করা ।
৯। সতী-সাধ্বী মু’মিন নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া।
১০। সংগত কারণ (ওজর) ছাড়া রমাদ্বানের সিয়াম ভংগ করা বা না রাখা ।
১১। যাকাত আদায় না করা ।
১২। ক্ষমতা থাকা সত্ত্ব্যেও হাজ্জ আদায় না করা ।
১৩। যাদুর বেধতায় বিশ্বাস করা ।
১৪। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ।
১৫। অহংকার করা ।
১৬। চুগলখোরী করা (একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগানো) ।
১৭। আত্মহত্যা করা ।
১৮। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ।
১৯। অবেধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা ।
২০। দান বা উপকার করে খোটা দেয়া।
২১। মদ তেরী করা, মদ তেরি করে নেয়া, মদ পানকরা, মদ বহনকরা, মদ পরিবেশন করা, মদ বিক্রয় কড়া, মদ বিক্রয়ের পয়সা ভক্ষণ কড়া, মদ ক্রয় কড়া।
২২। জুয়া খেলা ।
২৩। তাকদীর (ভাগ্যের ভালো-মন্দ) অস্বীকার করা ।
২৪। অদশ্যের খবর জানার দাবি করা ।
২৫। গনকের কাছে ধর্ণা দেয়া বা গণকের
২৬। পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা ।
২৭। রসূলের নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করা ।
২৮। মিথ্যা সপ্ন বর্ণনা করা।
২৯। মিথ্যা কথা বলা।
৩০। মিথ্যা কসম খাওয়া ।
৩১। মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা।
৩২।জিনা ব্যবিচারে লিপ্ত হওয়া ।
৩৩। সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া ।
৩৪।মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টাকরা বা কারো অনুমতি ছাড়া তার ঘরে উঁকি মারা।
৩৫। হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা বা যার জন্য হিল্লা করা হয়।
৩৬। হারাম খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা ।
৩৯। মুসলিম জামা”আত (আহলে সুন্নাত ওয়ালা জামা’আত) থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
৪০। হওয়াঝগড়া বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা বা মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া ।
৪১। খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্যে বস্তু বানানো ।
৪২। কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া।
৬১।চুরি করা।
৬২। সুদ লেন-দেন করা,সুদনলেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা।
৬৩।ঘুষ লেন-দেন করা।
৬৪।গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফিরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বন্টনের পূর্বে আত্মসাত করা ।
৬৫। স্ত্রীর পায়ু পথে বা মাসিক অবস্থায় যোন ক্রিয়া/সহবাস করা ।
৬৬। যুলুম-অত্যাচার করা ।
৬৭। অস্ত্র দ্বারা মু’মিনকে ভয় দেখানো বা তা দ্বারা ইংগিত করা ।
৬৮। প্রতারণা বা ঠকবাজী করা ।
৬৯।রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা ।
৭০। স্বর্ণ বা রোপ্যের তেরি পাত্রে পানাহার করা ।
৭১।সাহাবীদের গালি দেয়া।
৭২।পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ব্যবহার করা ।
৭৩। বাম হাতে খাওয়া ।
৭৪। মনিবের নিকট থেকে কিতদাসের পলায়ন ।
৭৫। ভ্রান্ত মতবাদ, জাহেলী রীতি-নীতি অথবা বিদ’আতার প্রতি আহবান করা ।
৭৬।পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কতি করা ।
৭৭। কোন দুষ্কিতিকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া ।
৭৮। আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা ।
৭৯। বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া ।
৮০। কোন নারীর প্রতি তার স্বামীর অসুন্তুষ্টি।
৮১। স্বামীর অবাধ্য হওয়া ।
৮২। স্ত্রী কর্তিক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
৮৩। স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা ।
৮৪। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সিষ্টি করা ।
৮৫। বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া ।
৮৬।বিশ্বাসঘাতকতা করা ।
৮৭। অঙ্গীকার পূরণ না করা ।
৮৮। আমানতের খিয়ানত করা ।
৮৯। মুসলমানকে কাফের বলে আখ্যায়িত করা ।
৯০। ঋণ পরিশোধ না করা ।
৯১। বদমেজাজ অহংকার করা ।
৯২। তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি জুলানো ।
৯৩। পরীক্ষায় নকল করা ।
৯৪। ভেজাল পন্য বিক্রয় করা ।
৯৫। ইচ্ছাকিতভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা ।
৯৬। আল্লাহর উপর মিথ্যে আরোপ করা ।
৯৭। দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম-জ্ঞান অর্জন করা ।
৯৮। কোন ইলম জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তা জানা সত্ত্বেও গোপন করা ।
৯৯।নিজের পিতা জানা সত্ত্বেও অন্যকে পিতা বলে দাবি করা ।
১০০। আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া ।