Search for:
Shakh Neamul Hasan
১৫তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও তরজমা।

★ ১৫তম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ১৫তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৮তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১৮তম পারা (সুরা মু’মিনুনের ১নং আয়াত থেকে সুরা ফুরকানের ২০নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

•মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
যারা যাকাত প্রদান করে থাকে;
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। [সুরা মু’মিনুন- ১-৫]

•আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। [সুরা মু’মিনুন- ১২-১৪]

•আমি একাদিক্রমে আমার রসূল প্রেরণ করেছি। যখনই কোন উম্মতের কাছে তাঁর রসূল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতঃপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা। [সুরা মু’মিনুন-৪৪]

•নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত;
যারা তাদের পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে;
যারা তাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করে না;
এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে;
তারাই কল্যাণ দ্রুত অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী। [সুরা মু’মিনুন- ৫৭-৬১]

•আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পন করি না। [সুরা মু’মিনুন-৬২]

•আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোন মাবুদ নেই। থাকলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত এবং একজন অন্যজনের উপর প্রবল হয়ে যেত। তারা যা বলে, তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। [সুরা মু’মিনুন-৯১]

•বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ঠ রহমকারী। [সুরা মু’মিনুন-১১৮]

•যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান। [সুরা নুর-৪]

•যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। [সুরা নুর-১৯]

•হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন। [সুরা নুর-২১]

•যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। [সুরা নুর-২৩]

•হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। [সুরা নুর-২৭]

•যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন। [সুরা নুর-২৮]

•মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [সুরা নুর-৩০]

•ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে; এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে; তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সুরা নুর-৩১]

•এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। [সুরা নুর-৩৭]

•আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রুযী দান করেন। [সুরা নুর-৩৮]

•আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই। [সুরা নুর-৪০]

•তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য এবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। [সুরা নুর-৪১]

•যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য। [সুরা নুর-৫২]

•তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে; এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন; এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য। [সুরা নুর-৫৫]

•নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। [সুরা নুর-৫৬]

•তারা চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় সেখানে (জান্নাতে) যা চাইবে, তাই পাবে। এই প্রার্থিত ওয়াদা পূরণ আপনার পালনকর্তার দায়িত্ব। [সুরা ফুরকান-১৬]

•আমি তোমাদের এক কে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন। [সুরা ফুরকান-২০]

Tarabi Salat
১৪তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও তরজমা

★ ১৪তম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ১৪তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৭তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১৭তম পারা (সুরা আম্বিয়ার ১নং আয়াত থেকে সুরা হজ্জ্বের ৭৮নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•আকাশ ও পৃথিবী এবং যা এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। [ সুরা আম্বিয়া-১৬ ]

•তারা মাটি হইতে তৈরী যেসব দেবতা গ্রহণ করেছে, সেসব কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? [ সুরা আম্বিয়া-২১ ]

•আমি আপনার পূর্বে এমন কোন রাসূল প্রেরণ করেনি, তার প্রতি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এই ওহী ব্যতীত। সুতরাং তোমরা আমারই এবাদত কর। [ সুরা আম্বিয়া-২৫ ]

•কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? [ সুরা আম্বিয়া-৩০ ]

•(আল্লাহই) সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। [ সুরা আম্বিয়া-৩৩ ]

•জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সুরা আম্বিয়া-৩৫ ]

•তবে কি আমি ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা আমার মোকাবেলায় সাহায্যকারীও পাবে না। [ সুরা আম্বিয়া-৪৩ ]

•আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট। [ সুরা আম্বিয়া-৪৭ ]

•তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর এবাদত কর, যা তোমাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না ? [ সুরা আম্বিয়া-৬৬ ]

•অতঃপর যে কেহ মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, তার প্রচেষ্টা অস্বীকৃত হবে না এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করে রাখি। [ সুরা আম্বিয়া-৯৪ ]

•তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরা সবাই তাতে প্রবেশ করবে। [ সুরা আম্বিয়া-৯৮ ]

•এই মূর্তিরা যদি উপাস্য হত, তবে জাহান্নামে প্রবেশ করত না। প্রত্যেকেই তাতে চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে থাকবে। [ সুরা আম্বিয়া-৯৯ ]

•সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। প্রতিশ্রুতি পালন করা আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই। [ সুরা আম্বিয়া-১০৪ ]

•আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। [ সুরা আম্বিয়া-১০৭ ]

•হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার। [ সুরা হাজ্জ্ব-১ ]

•যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল সদৃশ; অথচ তারা নেশাগ্রস্থ নয়; বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব কঠিন। [ সুরা হাজ্জ্ব-২ ]

•হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে হীনতম বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। [ সুরা হাজ্জ্ব-৫ ]

•কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। [ সুরা হাজ্জ্ব-৭ ]

•কতক মানুষ জ্ঞান; প্রমাণ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে। [ সুরা হাজ্জ্ব-৮ ]

•মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর এবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে এবাদতের উপর কায়েম থাকে; এবং যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি [ সুরা হাজ্জ্ব-১১ ]

•সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা। [ সুরা হাজ্জ্ব-১২ ]

•যারা কুফরী করে, তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্যে আছে লোহার হাতুড়ি।
তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবেঃ দহন শাস্তি আস্বাদন কর। [ সুরা হাজ্জ্ব-১৯-২২ ]

•তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথন থেকে দূরে সরে থাক; [ সুরা হাজ্জ্ব-৩০ ]

•আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর। [ সুরা হাজ্জ্ব-৪০ ]

•আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি এমতাবস্থায় যে, তারা ছিল গোনাহগার। এই সব জনপদ এখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে। [ সুরা হাজ্জ্ব-৪৫ ]

•যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে আছে পাপ মার্জনা এবং সম্মানজনক রুযী। [ সুরা হাজ্জ্ব-৫০ ]

•তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন। [ সুরা হাজ্জ্ব-৭৩ ]

কাবীরা (বড়) গুনাহ

কবীরা (বড়) গুনাহ কাকে বলে ?
কাবীরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্মসমূহকে যেগুলোতে নিম্নোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যায় ঃ
১. যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়াতে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
২. যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দন্ড প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে ।
৩. যে সকল কাজে আল্লাহ রাগ করেন।
৪. যে সকল কাজে আল্লাহ, নবী, ও ফেরেশতামন্ডলী লা’নত/অভিসম্পাত দেন।
কাবীরা (বড়) গুনাহ
১। আল্লাহর সাথে শিরক (অংপন) করা ।
২। সালাত পরিত্যাগ করা ।
৩। পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ।
৪। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা ।
৫। পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা ।
৬। যাদু-টোনা করা ।
৭। ইয়াতীমের সম্পদ আত্নসাত করা।
৮। জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করা ।
৯। সতী-সাধ্বী মু’মিন নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া।
১০। সংগত কারণ (ওজর) ছাড়া রমাদ্বানের সিয়াম ভংগ করা বা না রাখা ।
১১। যাকাত আদায় না করা ।
১২। ক্ষমতা থাকা সত্ত্ব্যেও হাজ্জ আদায় না করা ।
১৩। যাদুর বেধতায় বিশ্বাস করা ।
১৪। প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ।
১৫। অহংকার করা ।
১৬। চুগলখোরী করা (একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগানো) ।
১৭। আত্মহত্যা করা ।
১৮। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ।
১৯। অবেধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা ।
২০। দান বা উপকার করে খোটা দেয়া।
২১। মদ তেরী করা, মদ তেরি করে নেয়া, মদ পানকরা, মদ বহনকরা, মদ পরিবেশন করা, মদ বিক্রয় কড়া, মদ বিক্রয়ের পয়সা ভক্ষণ কড়া, মদ ক্রয় কড়া।
২২। জুয়া খেলা ।
২৩। তাকদীর (ভাগ্যের ভালো-মন্দ) অস্বীকার করা ।
২৪। অদশ্যের খবর জানার দাবি করা ।
২৫। গনকের কাছে ধর্ণা দেয়া বা গণকের
২৬। পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা ।
২৭। রসূলের নামে মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করা ।
২৮। মিথ্যা সপ্ন বর্ণনা করা।
২৯। মিথ্যা কথা বলা।
৩০। মিথ্যা কসম খাওয়া ।
৩১। মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা।
৩২।জিনা ব্যবিচারে লিপ্ত হওয়া ।
৩৩। সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া ।
৩৪।মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টাকরা বা কারো অনুমতি ছাড়া তার ঘরে উঁকি মারা।
৩৫। হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা বা যার জন্য হিল্লা করা হয়।
৩৬। হারাম খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা ।
৩৯। মুসলিম জামা”আত (আহলে সুন্নাত ওয়ালা জামা’আত) থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
৪০। হওয়াঝগড়া বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা বা মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া ।
৪১। খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্যে বস্তু বানানো ।
৪২। কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া।
৬১।চুরি করা।
৬২। সুদ লেন-দেন করা,সুদনলেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা।
৬৩।ঘুষ লেন-দেন করা।
৬৪।গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফিরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বন্টনের পূর্বে আত্মসাত করা ।
৬৫। স্ত্রীর পায়ু পথে বা মাসিক অবস্থায় যোন ক্রিয়া/সহবাস করা ।
৬৬। যুলুম-অত্যাচার করা ।
৬৭। অস্ত্র দ্বারা মু’মিনকে ভয় দেখানো বা তা দ্বারা ইংগিত করা ।
৬৮। প্রতারণা বা ঠকবাজী করা ।
৬৯।রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা ।
৭০। স্বর্ণ বা রোপ্যের তেরি পাত্রে পানাহার করা ।
৭১।সাহাবীদের গালি দেয়া।
৭২।পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ব্যবহার করা ।
৭৩। বাম হাতে খাওয়া ।
৭৪। মনিবের নিকট থেকে কিতদাসের পলায়ন ।
৭৫। ভ্রান্ত মতবাদ, জাহেলী রীতি-নীতি অথবা বিদ’আতার প্রতি আহবান করা ।
৭৬।পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কতি করা ।
৭৭। কোন দুষ্কিতিকারীকে প্রশ্রয় দেওয়া ।
৭৮। আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা ।
৭৯। বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া ।
৮০। কোন নারীর প্রতি তার স্বামীর অসুন্তুষ্টি।
৮১। স্বামীর অবাধ্য হওয়া ।
৮২। স্ত্রী কর্তিক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
৮৩। স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা ।
৮৪। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সিষ্টি করা ।
৮৫। বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া ।
৮৬।বিশ্বাসঘাতকতা করা ।
৮৭। অঙ্গীকার পূরণ না করা ।
৮৮। আমানতের খিয়ানত করা ।
৮৯। মুসলমানকে কাফের বলে আখ্যায়িত করা ।
৯০। ঋণ পরিশোধ না করা ।
৯১। বদমেজাজ অহংকার করা ।
৯২। তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি জুলানো ।
৯৩। পরীক্ষায় নকল করা ।
৯৪। ভেজাল পন্য বিক্রয় করা ।
৯৫। ইচ্ছাকিতভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা ।
৯৬। আল্লাহর উপর মিথ্যে আরোপ করা ।
৯৭। দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম-জ্ঞান অর্জন করা ।
৯৮। কোন ইলম জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তা জানা সত্ত্বেও গোপন করা ।
৯৯।নিজের পিতা জানা সত্ত্বেও অন্যকে পিতা বলে দাবি করা ।
১০০। আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া ।