Search for:
Tarabi Salat
১২তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও তরজমা।

★ ১২তম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ১২তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৫তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১৫তম পারা (সুরা বনি-ইসরাঈলের ১নং আয়াত থেকে সুরা কা’হফের ৭৪নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•এই কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ পথ প্রদর্শন করে এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে রয়েছে মহা পুরস্কার। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৯ ]

•আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-১০ ]

•মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো তার মনে যা আসে, তা চিন্তা না করেই খুবই দ্রুত প্রত্যাশাকে কামনা করে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-১১ ]

•আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মকে তার গ্রীবলগ্ন করে রেখেছি। কেয়ামতের দিন বের করে দেখাব তাকে একটি কিতাব, যা সে খোলা অবস্থায় পাবে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-১৩ ]

•(আমি বলব) পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-১৪ ]

•যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-১৫ ]

•আল্লাহর সাথে অন্য কোন মাবুদ স্থির করো না। তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃসহায় হয়ে পড়বে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-২২ ]

•তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্বব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে `উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বল। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-২৩ ]

•তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন করে তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-২৪ ]

•আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-২৬,২৭ ]

•তুমি একেবারে বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-২৯ ]

•দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্নক অপরাধ। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৩১ ]

•আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৩২ ]

•মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৩৫ ]

•যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৩৬ ]

•পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূপৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত সমান হতে পারবে না। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৩৭ ]

•সূর্য্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং কায়েম করুন ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ স্বাক্ষী স্বরুপ। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৭৮ ]

•রাত্রির কিছু অংশে কোরআন পাঠ সহ (তাহাজ্জুদে) জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৭৯ ]

•বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েই থাকে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৮১ ]

•আমি অবতীর্ণ করেছি কোরআন, যা মুমিনের জন্য রোগের সুচিকিৎসা এবং রহমত। কিন্তু তা সীমালংঘন কারীদের শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি করে। [ সুরা বনী-ইসরাঈল-৮২ ]

•আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামীকাল করব। `আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ (ইনশাআল্লাহ) বলা ব্যতিরেকে। [ সুরা কা’হফ-২৩,২৪ ]

•আমি সীমালংঘনকারীদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। [ সুরা কা’হফ-২৯ ]

•যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করি; আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না। [ সুরা কা’হফ-৩০ ]

•ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং সৎকর্মসমূহ যার ফল স্থায়ী; ওটা আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম। [ সুরা কা’হফ-৪৬ ]

•আর সেদিন উপস্থিত করা হবে আমলনামা। তাতে যা আছে তাতে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ যায়নি- বরং এতে সব হিসাবই রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত দেখতে পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। [ সুরা কা’হফ-৪৯ ]

Tarabi Salat
১১তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও তরজমা ।

★ ১১তম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ১১তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৪তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১৪তম পারা থেকে (সুরা হিজরের ২নং আয়াত থেকে সুরা নাহলের ১২৮নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক। [ সুরা হিজর-৯ ]

•আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি সুষম পরিমানেই তা সরবরাহ করি। [ সুরা হিজর-২১ ]

•আমিই জীবন দান করি, আমিই মৃত্যু দান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী। [ সুরা হিজর-২৩ ]

•আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পচা কর্দমা থেকে তৈরী শুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা। [ সুরা হিজর-২৬ ]

•যারা পথভ্রষ্ট তারা ছাড়া আর কে তার রবের অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয় ? [ সুরা হিজর-৫৬ ]

•আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা অযথা সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপেক্ষা করুন। [ সুরা হিজর-৮৫ ]

•বিদ্রুপকারীদের বিরুদ্ধে আমিই আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট। [ সুরা হিজর-৯৫ ]

•তিনি মানুষকে এক ফোটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। অথচ সে হয়ে গেলো প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী। [ সুরা নাহল-৪ ]

•যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা নাহল-১৮ ]

•যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের ডাকে, ওরা তো কোন বস্তুই সৃষ্টি করে না; বরং ওরা নিজেরাই সৃজিত। [ সুরা নাহল-২০ ]

•আমাদের ইলাহ একক ইলাহ। [ সুরা নাহল-২২ ]

•তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। [ সুরা নাহল-৩৬ ]

•আমি যখন কোন কিছু করার ইচ্ছা করি; তখন তাকে কেবল এতটুকুই বলি যে, হয়ে যাও। সুতরাং তা হয়ে যায়। [ সুরা নাহল-৪০ ]

•যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দেব এবং পরকালের পুরস্কার তো শ্রেষ্ঠ। হায়, যদি তারা জানত। [ সুরা নাহল-৪১ ]

•তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না, ইলাহ তো মাত্র একজনই। অতএব আমাকেই ভয় কর। [ সুরা নাহল-৫১ ]

•যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না। [ সুরা নাহল-৬১ ]

•আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেনঃ পর্বত, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরী কর, এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। [ সুরা নাহল-৬৮,৬৯ ]

•তোমরা আল্লাহর কোন সদৃশ সাব্যস্ত করো না, নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। [ সুরা নাহল-৭৪ ]

•নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান। [ সুরা নাহল-৭৭ ]

•আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর। [ সুরা নাহল-৭৮ ]

•তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, কিন্তু সেগুলো তারা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই কাফের। [ সুরা নাহল-৮৩ ]

•আমি কাফেরদের উপর এবং আল্লাহর পথে বাধা দানকারীদের উপর আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ, তারা অশান্তি সৃষ্টি করত। [ সুরা নাহল-৮৮ ]

•আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুমিনদের জন্যে সুসংবাদ। [ সুরা নাহল-৮৯ ]

•নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন; এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ এবং সীমা লংঘন করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন কর। [ সুরা নাহল-৯০ ]

•তোমরা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে যা আছে, তোমাদের জন্যে তা উত্তম, যদি তোমরা জানতে। [ সুরা নাহল-৯৫ ]

•যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। [ সুরা নাহল-৯৮ ]

•তার (শয়তানের) কোন আধিপত্য নেই তাদের উপর, যারা ঈমান এনেছে এবং আপন রবের উপরই ভরসা রাখে। [ সুরা নাহল-৯৯ ]

•তার (শয়তানের) আধিপত্য তো তাদের উপরই চলে, যারা তাকে বন্ধু মনে করে এবং যারা তাকে অংশীদার মানে। [ সুরা নাহল-১০০ ]

•যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরত করে, পরে জেহাদ করে, এবং ধৈর্য্য ধারন করে; নিশ্চয় আপনার রব এসব বিষয়ের পর অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [ সুরা নাহল-১১০ ]

•অনন্তর যারা অজ্ঞতাবশতঃ পাপ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, আপনার পালনকর্তা এসবের পরে তাদের জন্যে অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা নাহল-১১৯ ]

•নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা পরহেযগার এবং যারা সৎকর্ম করে। [ সুরা নাহল-১২৮ ]

Tarabi Salat
১০ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও তরজমা

★ ১০ম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ১০ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৩তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১৩তম পারা থেকে ( সুরা ইউসুফের ৫৩নং আয়াত থেকে সুরা হিজরের ১নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•নিশ্চয় মানুষের মন মন্দকর্ম প্রবণ; কিন্তু আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন, সে ব্যতীত। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা ইউসুফ-৫৩ ]

•নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের। [ সুরা ইউসুফ-৬৭ ]

•আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা একমাত্র আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি। [ সুরা ইউসুফ-৮৬ ]

•নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না। [ সুরা ইউসুফ-৮৭ ]

•নিশ্চয় যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ সেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। [ সুরা ইউসুফ-৯০ ]

•আমার পালনকর্তা যা চান, তা কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [ সুরা ইউসুফ-১০০ ]

•অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। [ সুরা ইউসুফ-১০৬ ]

•আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা সঙ্কুচিত ও বর্ধিত হয়। [ সুরা রা’দ-৮ ]

•তিনি সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় অবগত, মহোত্তম, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান। [ সুরা রা’দ-৯ ]

•আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। [ সুরা রা’দ-১১ ]

•যারা পালনকর্তার আদেশ পালন করে, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছে। এবং যারা আদেশ পালন করে না -যদি তাদের কাছে জগতের সবকিছু থাকে এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। সেটা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান। [ সুরা রা’দ-১৮ ]

•যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে, আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে, এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ। [ সুরা রা’দ-২২ ]

•জান্নাত হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা থাকবে। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। [ সুরা রা’দ-২৩ ]

•(ফেরেশতারা) বলবেঃ তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম- এ গৃহ কতই না চমৎকার। [ সুরা রা’দ-২৪ ]

•এবং যারা আল্লাহর অঙ্গীকারকে দৃঢ় ও পাকা-পোক্ত করার পরও তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, ওরা ঐ সমস্ত লোক যাদের জন্যে রয়েছে অভিসম্পাত এবং ওদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। [ সুরা রা’দ-২৫ ]

•আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিবজীবন পরকালের সামনে অতি সামান্য সম্পদ বৈ কিছু নয়। [ সুরা রা’দ-২৬ ]

•যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়। [ সুরা রা’দ-২৮ ]

•যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ এবং মনোরম প্রত্যাবর্তণস্থল। [ সুরা রা’দ-২৯ ]

•বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ। [ সুরা রা’দ-৩০ ]

•বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন। [ সুরা রা’দ-৩৬ ]

•আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [ সুরা ইবরাহীম-৪ ]

•তোমরা এবং পৃথিবীর সবাই যদি কুফরী কর, তথাপি আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, যাবতীয় গুনের আধার। [ সুরা ইবরাহীম-৮ ]

•ঈমানদারদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। [ সুরা ইবরাহীম-১১ ]

•ভরসাকারিগণের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। [ সুরা ইবরাহীম-১২ ]

•তার পেছনে দোযখ রয়েছে। তাতে পূঁজ মিশানো পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে। এবং গলার ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। প্রতি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু আগমন করবে এবং সে মরবে না। তার পশ্চাতেও রয়েছে কঠোর আযাব। [ সুরা ইবরাহীম-১৬,১৭ ]

•আমার বান্দাদেরকে বলে দিনঃ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তারা নামায কায়েম রাখুক এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করুক ঐদিন আসার আগে, যেদিন কোন বেচাকেনা নেই এবং বন্ধুত্বও নেই। [ সুরা ইবরাহীম-৩১ ]

•যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। [ সুরা ইবরাহীম-৩৪ ]

•হে আমার পালনকর্তা, এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন। [ সুরা ইবরাহীম-৩৫ ]

•হে আমার পালনকর্তা, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। [ সুরা ইবরাহীম-৩৬ ]

•হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি তো জানেন আমরা যা কিছু গোপনে করি এবং যা কিছু প্রকাশ্যে করি। আল্লাহর কাছে পৃথিবীতে ও আকাশে কোন কিছুই গোপন নয়। [ সুরা ইবরাহীম-৩৮ ]

যেসব দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাঃ


যেসব দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাঃ
(রেফারেন্স সহ)

১) অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু’আ, কোন মুসলিমের অগোচরে অন্য মুসলিমের দু’আ। (মুসলিম -৬৮২২)

২) জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুম ব্যক্তির দু’আ। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৩) বাবা তার সন্তানের জন্য দু’আ৷ (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৪) নেককার সন্তানের দু’আ – বাবা-মায়ের জন্য তাদের মৃত্যুর পর। (আবু দাউদ-২৮৮০)

৫) আরাফাতের ময়দানে দু’আ। (তিরমীযি-৩৫৮৫)

৬) বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দু’আ (সূরা নমল ৬২,৫৭ ও সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বার আয়াত)

৭) সেজদায় দু’আ। (নাসায়ী১০৪৫)

৮) হজ্জের স্থানসমূহে দু’আ। যেমন: আরাফাহ, মুজদালিফা, মিনা…। (ইবনে মাজাহ-২৮৯২)

৯) হজ্জ করা অবস্থায় হাজ্জীর দু’আ। (ইবনে মাজাহ-২৮৯৩)

১০) উমরাহ করার সময় উমরাহকারীর দু’আ। (নাসায়ী-২৬২৫)

১১) আযানের পর দু’আ। (তিরমীযি-২১০)

১২) ক্বিতাল চলাকালীন সময় দু’আ। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৩) বৃষ্টি বর্ষণকালে দু’আ। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৪) শেষ রাতের দু’আ, তাহাজ্জুদের সময়কার দু’আ। বুখারী-১১৪৫)

১৫) জুম্মার দিনে দু’আ, আসরের শেষ দিকে তালাশ করার জন্য নির্দেশ আছে। (নাসায়ী-১৩৮৯)

১৬) লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রির দু’আ। (বুখারী ও মুসলিম)

১৭) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়কার দু’আ। (আহমাদ-১৪৬৮৯, মুসলিম -৬৬৮)

১৮) ফরয স্বলাতের শেষ অংশে দু’আ (সালাম ফিরানোর আগে)। (রিয়াদুস স্বালেহীন ১৫০৮, তিরমীযি-৩৪৯৯)

১৯),মুসাফিরের দু’আ (সফর অবস্থায়)। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২০) রোজাদার ব্যক্তির দু’আ (রোজা অবস্থায়) । (ইবনে মাজাহ-১৭৫২)

২১) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু’আ। (তিরমীযি-২৫২৬)

২২) দু’আ ইউনুস পাঠ করে দু’আ করলে কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৫০৫)

২৩) ইসমে আযম পড়ে দু’আ করলে কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-৩৮৫৬)

২৪) বিপদে পতিত হলে যে দু’আ পড়া হয় (ইন্না লিল্লা-হি… রাজিউন) এবং ( আল্লা-হুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খইরাম মিনহা…) তখন দু’আ কবুল হয়।

(মিশকাতুল মাসীবাহ-১৬১৮, মুসলিম -৯১৮)
২৫) জমজমের পানি পান করার পর দু’আ। ( ইবনে মাজাহ-৩০৬২, আহমদ৩/৩৫৭)

২৬) নির্যাতিতের দু’আ। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২৭) যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ চাইবে, কেননা সে একটি ফেরেশতা দেখেছে। (বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৩৫০, নং ৩৩০৩; মুসলিম, ৪/,২০৯২, নং ২৭২৯)

২৮) দু’হাত তুলে দোয়া করা, আল্লাহ বান্দার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (আবু দাউদ-১৪৮৮)

আল্লাহ আমাদের সকল নেক দোয়াগুলো কবুল করুন। আমিন

৯ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও তরজমা।

★ ৯ম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ৯ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১২তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১২তম পারা থেকে ( সুরা হুদের ৬নং আয়াত থেকে সুরা ইউসুফের ৫২নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান । [ সুরা হুদ-১১ ]

•যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হবে না। এরাই হল সেসব লোক, আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া কিছু নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল। [ সুরা হুদ-১৫,১৬ ]

•যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়ায়, এরাই হলো আখরাতকে অস্বীকারকারী। [ সুরা হুদ-১৯ ]

•নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে। [ সুরা হুদ-২৩ ]

•আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালনকর্তার সরল পথে কোনই সন্দেহ নেই। [ সুরা হুদ-৫৬ ]

•নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী। [ সুরা হুদ-৫৭ ]

•আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ তাদের কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল। [ সুরা হুদ-১০১ ]

•নিশ্চয় আল্লাহর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর। [ সুরা হুদ-১০২ ]

•নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাজিরার দিন। [ সুরা হুদ-১০৩ ]

•যেদিন তা আসবে, সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারবে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য, আর কিছু লোক হবে সৌভাগ্যবান। [ সুরা হুদ-১০৫ ]

•অতএব, তারা যেসবের পূজা উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ-দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমনটা করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো। [ সুরা হুদ-১০৯ ]

•আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না। [ সুরা হুদ-১১৩ ]

•আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। [ সুরা হুদ-১১৫ ]

•তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব। [ সুরা হুদ-১১৯ ]

•আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপরই ভরসা রাখ; আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে-খবর নন। [ সুরা হুদ-১২৩ ]

•পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? [ সুরা ইউসুফ-৩৯ ]

•তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোনরকম প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। [ সুরা ইউসুফ-৪০ ]

৮ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন

★ ৮ম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর আগামীকালের ৮ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১১তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

১১তম পারা থেকে ( সুরা তাওবার ৯৪নং আয়াত থেকে সুরা হুদের ৫নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল; এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহে অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেনদেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হলো মহান সাফল্য।[ সুরা তাওবা-১১১ ]

•তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে। [ সুরা তাওবা-১১২ ]

•নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক; একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী। [ সুরা তাওবা-১১৩ ]

•নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান; আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই। [ সুরা তাওবা-১১৬ ]

•হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।[ সুরা তাওবা-১১৯ ]

•নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না। [ সুরা তাওবা-১২০ ]

•তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। [ সুরা তাওবা-১২৮ ]

• বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি। [ সুরা তাওবা-১২৯ ]

•নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া। ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ? [ সুরা ইউনুস-৩ ]

•তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার, আবার পুনর্বার তৈরী করবেন। তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল। [ সুরা ইউনুস-৪ ]

•তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়। আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে। এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ। যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ, সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে। [ সুরা ইউনুস-৫ ]

•নিশ্চয়ই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সেসব লোকের জন্য যারা ভয় করে। [ সুরা ইউনুস-৬ ]

•অবশ্য তোমাদের পূর্বে বহু দলকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গেছে। অথচ রসূল তাদের কাছেও এসব বিষয়ের প্রকৃষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তারা ঈমান আনল না। এমনিভাবে আমি শাস্তি দিয়ে থাকি পাপী সম্প্রদায়কে। [ সুরা ইউনুস-১৩ ]

•গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। [ সুরা ইউনুস-২০ ]

•আল্লাহ জুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর জুলুম করে। [ সুরা ইউনুস-৪৪ ]

•শুনে রাখ, যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও যমীনে সবই আল্লাহর। শুনে রাখ, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তবে অনেকেই জানে না।[ সুরা ইউনুস-৫৫ ]

•তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [ সুরা ইউনুস-৫৬ ]

•বস্তুতঃ যে কোন অবস্থাতেই তুমি থাক, এবং কোরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ কর, কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর, অথচ আমি তোমাদের নিকটে উপস্থিত থাকি, যখন তোমরা তাতে আত্ননিয়োগ কর। আর তোমার পরওয়ারদেগার থেকে গোপন থাকে না একটি কণাও, না যমীনের এবং না আসমানের। না এর চেয়ে ক্ষুদ্র কোন কিছু আছে, না বড় -যা এই প্রকৃষ্ট কিতাবে নেই। [ সুরা ইউনুস-৬১ ]

•মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে। [ সুরা ইউনুস-৬২ ]

•আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতো সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য? [ সুরা ইউনুস-৯৯ ]

•আর নির্দেশ হয়েছে- আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। [ সুরা ইউনুস-১০৬ ]

•আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু। [ সুরা ইউনুস-১০৭ ]

•আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন। আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি। [ সুরা হুদ-৩ ]

•আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। [ সুরা হুদ-৪ ]

•নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তরসমূহে নিহিত রয়েছে। [ সুরা হুদ-৫ ]

৭ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও তরজমা।

★ ৭ম রোজার তারাবীহ ★

আজ নামাজের পর আগামীকালের ৭ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১০নং পারাটি তেলাওয়াত করা হবে।

১০নং পারা থেকে (সুরা আনফালের ৪১নং আয়াত থেকে সুরা তাওবার ৯৩নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত। কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ। [ সুরা আনফাল-৪৯ ]

•আল্লাহ কখনও পরিবর্তন করেন না সে সব নেয়ামত, যা তিনি কোন জাতিকে দান করেছিলেন। যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুতঃ আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। [ সুরা আনফাল-৫৩ ]

•নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব তারাই- যারা কুফরী করে এবং অতঃপর আর ঈমান আনেনা। [ সুরা আনফাল-৫৫ ]

•যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। [ সুরা আনফাল-৬০ ]

•হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে; তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন। [ সুরা আনফাল-৬৫ ]

•তোমরা দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী সম্পদ কামনা করছ, অথচ আল্লাহ চান তোমাদের পরকালের কল্যাণ। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। [ সুরা আনফাল-৬৭ ]

•যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো প্রকৃত মুমিন। তাঁদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী। [ সুরা আনফাল-৭৪ ]

•তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদেরকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। [ সুরা তাওবা-১৬ ]

•মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। [ সুরা তাওবা-১৭ ]

•নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। [ সুরা তাওবা-১৮ ]

•হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী। [ সুরা তাওবা-২৩ ]

•তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়। তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। [ সুরা তাওবা-২৪ ]

•তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে। [ সুরা তাওবা-৩২ ]

•যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। [ সুরা তাওবা-৩৪ ]

•সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে) এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে। সুতরাং এক্ষণে জমা করে রাখার স্বাদ গ্রহণ কর। [ সুরা তাওবা-৩৫ ]

•হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর। তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। [ সুরা তাওবা-৩৮ ]

•যদি বের না হও, আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। [ সুরা তাওবা-৩৯ ]

•তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে। এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। [ সুরা তাওবা-৪১ ]

•আল্লাহই আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত। [ সুরা তাওবা-৫১ ]

•তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার তাদের জন্য তিনি (রসুল) রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। [ সুরা তাওবা-৬১ ]

•আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা-অপমান। [ সুরা তাওবা-৬৩ ]

•আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? [ সুরা তাওবা-৬৫ ]

•মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম। শিক্ষা দেয় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তারা, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন; নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান। [ সুরা তাওবা-৬৭ ]

•আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। [ সুরা তাওবা-৭১ ]

•এরা যদি তওবা করে নেয়, তবে তাদের জন্য মঙ্গল। আর যদি তা না মানে, তবে আল্লাহ তাদেরকে আযাব দেবেন, বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখেরাতে। অতএব, বিশ্বচরাচরে তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী-সমর্থক নেই। [ সুরা তাওবা-৭৪ ]

•অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে। [ সুরা তাওবা-৮২ ]

•আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা নাফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। [ সুরা তাওবা-৮৪ ]

৬ষ্ঠ রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন

★ ৬ষ্ঠ রোজার তারাবীহ ★

আজ দিবাগত রাতে এশার নামাজের পর আগামীকালের ৬ষ্ঠ রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে সর্বমোট দেড় পারা (অষ্টম পারার শেষ অর্ধেকাংশ এবং সম্পুর্ন নবম পারা ) তেলাওয়াত করা হবে।

এই দেড় পারা থেকে (সুরা আরাফের ১২নং আয়াত থেকে সুরা আনফালের ৪০নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাযের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান কর। আর খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। [ সুরা আরাফ-৩১ ]

•যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে এমন কাউকে আমি তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। [ সুরা আরাফ-৪২ ]

•তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। সুতরাং, আজকে আমি তাদেরকে তেমনিভাবে ভুলে থাকবো। যেমনিভাবে তারা এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল এবং আমার আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত। [ সুরা আরাফ-৫১ ]

•নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন- যাতে তারা একে অন্যের অনুসরণ করে ত্বরিত গতিতে। সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র সবাই তার আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ বরকতময়, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। [ সুরা আরাফ-৫৪ ]

•তোমরা বিনীতভাবে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাকবে। তিনি সীমা লংঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। [ সুরা আরাফ-৫৫ ]

•পৃথিবীকে শান্তি শৃঙ্খলা স্থাপনের পর তাতে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। আল্লাহকে ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্খার সাথে ডাকো। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। [ সুরা আরাফ-৫৬ ]

•যারা আমার আয়াতসমূহকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তাদের যাবতীয় আমল ধ্বংস হয়ে যায়। তারা যা করত তদনুযায়ী তাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে। [ সুরা আরাফ-১৪৭ ]

•যারা খারাপ কাজ করলে, তারপর তওবা করে নেয়, এবং ঈমান আনে। তবে নিশ্চয়ই তোমার আল্লাহ তো ক্ষমাকারী, করুণাময়। [ সুরা আরাফ-১৫৩ ]

•বলুনঃ হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল। সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর, তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর। তোমরা তারই অনুসরণ কর-যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। আশা করা যায় তোমরা সরল পথপ্রাপ্ত হবে। [ সুরা আরাফ-১৫৮ ]

•আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর। যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা আরাফ-১৬৭ ]

•যারা আল্লাহর কিতাবকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে, নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মশীলদের সওয়াব। [ সুরা আরাফ-১৭০ ]

•আল্লাহ যাকে পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। [ সুরা আরাফ-১৭৮ ]

•আমি বহু জ্বিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না। তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না। আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, উদাসীন। [ সুরা আরাফ-১৭৯ ]

•আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দলও রয়েছে যারা সত্য পথের দাওয়াত দেয় এবং ন্যায়বিচার করে। [ সুরা আরাফ-১৮১ ]

•আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপূণ। [ সুরা আরাফ-১৮৩ ]

•আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তির মধ্যে উদভ্রান্তের মত অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন। [ সুরা আরাফ-১৮৬ ]

•আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন, এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে, অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না। [ সুরা আরাফ-১৮৭ ]

•আপনি বলে দিন, আল্লাহ যা চান তাছাড়া আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই। আর আমি যদি গায়েবের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম। ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য। [ সুরা আরাফ-১৮৮ ]

•তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। [ সুরা আরাফ-১৯১ ]

•আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা। [ সুরা আরাফ-১৯৪ ]

•তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে। কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে, যদ্বারা তারা দেখতে পায়। কিংবা তাদের কি কান আছে, যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক, আল্লাহর সাথে যাদেরকে অংশীদার করেছ, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না। [ সুরা আরাফ-১৯৫ ]

•আমার সহায়তো হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের। [ সুরা আরাফ-১৯৬ ]

•আর তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক, তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে। [ সুরা আরাফ-১৯৭ ]

•আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল। সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক। [ সুরা আরাফ-১৯৯ ]

•আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। [ সুরা আরাফ-২০০ ]

•আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়। তখন মনযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং নিরব ও নিশ্চুপ থাক। যাতে তোমাদের উপর রহমত বর্ষিত হয়। [ সুরা আরাফ-২০৪ ]

•আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না। [ সুরা আরাফ-২০৫ ]

•তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হও। [ সুরা আনফাল-১ ]

•যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে। [ সুরা আনফাল-২ ]

•যে সমস্ত লোক যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে- তারাই হল সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুযী। [ সুরা আনফাল-৩,৪ ]

•হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না। [ সুরা আনফাল-১৫ ]

•নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলার নিকট সমস্ত প্রাণীর তুলনায় তারাই মূক ও বধির, যারা উপলদ্ধি করে না। [ সুরা আনফাল-২২ ]

•হে ঈমানদারগণ, খেয়ানত করোনা আল্লাহর সাথে ও রসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে। [ সুরা আনফাল-২৭ ]

•নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। [ সুরা আনফাল-৩৬ ]

৫ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও তরজমা।

★ ৫ম রোজার তারাবীহ ★

আজ এশার নামাজের পর ৫ম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে সর্বমোট দেড় পারা (সপ্তম পারা সম্পুর্ন এবং অষ্টম পারার প্রথম অর্ধেকাংশ ) তেলাওয়াত করা হবে।

এই দেড় পারা থেকে (সুরা মায়েদার ৮৩নং আয়াত থেকে সুরা আরাফের ১১নং আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

•যারা কাফের হয়েছে এবং আমার আয়াতসমুহকে মিথ্যা বলেছে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। [ সুরা মায়েদা-৮৬ ]

•আল্লাহ তা’য়ালা যেসব বস্তু তোমাদেরকে দান করেছেন, তম্মধ্য থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু খাও এবং আল্লাহকে ভয় কর -যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী। [ সুরা মায়েদা-৮৮ ]

•হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারীর তীর -এসব গর্হিত বিষয় ও শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। অতএব, এগুলো থেকে সম্পুর্ন দূরে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। [ সুরা মায়েদা-৯০ ]

•তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের জীবনের জন্য একটি নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। তাছাড়া আরো একটি নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে নির্ধারিত আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর। [ সুরা আন’য়াম-২ ]

•তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে বহু দল ও সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি। যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিয়েছি। অতঃপর আমি তাদেরকে পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে নতুন নতুন জাতি ও সম্প্রদায়সমূহ সৃষ্টি করেছি। [ সুরা আন’য়াম-৬ ]

•তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ, মিথ্যা আরোপকারীদের পরিণাম কি হয়েছে? [ সুরা আন’য়াম-১১ ]

•আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই, কেননা আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি। [ সুরা আন’য়াম-১৫ ]

•আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা আমার অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা এখন কোথায়? [ সুরা আন’য়াম-২২ ]

•আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃপ্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা ঈমানদার হয়ে যেতাম। [ সুরা আন’য়াম-২৭ ]

•এবং তারা ইতিপূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। যদি তারা পুনঃপ্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী। [ সুরা আন’য়াম-২৮ ]

•পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করবে না ? [ সুরা আন’য়াম-৩২ ]

•যদি তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও। [ সুরা আন’য়াম-৪০ ]

•বলুন, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন। তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো ফিরিয়ে এনে দেবে? [ সুরা আন’য়াম-৪৬ ]

•আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কেন চিন্তা ভাবনা কর না ? [ সুরা আন’য়াম-৫০ ]

•তোমাদের পালনকর্তা নিজের উপর দয়া ও রহমত করার নীতি বাধ্যতামূলক করে নিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতা ও মূর্খতা বশতঃ কোন পাপ কাজ করলে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়। [ সুরা আন’য়াম-৫৪ ]

•হুকুমের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়।[ সুরা আন’য়াম-৫৭ ]

•তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। তার অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝরে পড়ে না। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না। সমস্ত কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। [ সুরা আন’য়াম-৫৯ ]

•ঐ দিন আল্লাহই একমাত্র ফয়সালা করবেন এবং তিনিই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। [ সুরা আন’য়াম-৬২ ]

•তাদেরকে বর্জন করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে; এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কোন ব্যক্তি স্বীয় কর্মদোষে ধ্বংস হয়ে না যায়। [ সুরা আন’য়াম-৭০ ]

•যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি অদৃশ্য বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে সর্বজ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। [ সুরা আন’য়াম-৭৩ ]

•যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী। [ সুরা আন’য়াম-৮২ ]

•এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী; এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এই কিতাবকেও বিশ্বাস করে এবং তারা নিয়মিতভাবে নিজের নামাযও আদায় করে। [ সুরা আন’য়াম-৯২ ]

•নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী। তিনি জীবন্তকে প্রানহীন থেকে বের করেন ও প্রানহীনকে জীবন্ত থেকে বের করেন। তিনি তো আল্লাহ, তাহলে তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? [ সুরা আন’য়াম-৯৫ ]

•তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনিই প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী। [ সুরা আন’য়াম-১০২ ]

•এরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের পূজা অর্চণা করে তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না । তাহলে তারাও ধৃষ্টতা ও অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে গালমন্দ করা শুরু করবে। [ সুরা আন’য়াম-১০৮ ]

•এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। [ সুরা আন’য়াম-১১২ ]

•আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মত চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। [ সুরা আন’য়াম-১১৬ ]

•যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করা হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর। যদি তোমরা আল্লাহর বিধানের উপর ঈমান রাখ। [ সুরা আন’য়াম-১১৮ ]

•যেসব জন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করা হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এগুলো ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তান তাদের বন্ধুদের মনে নানাপ্রকার সন্দেহ ও প্রশ্ন সৃষ্টি করে-যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করতে পারে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে। [ সুরা আন’য়াম-১২১ ]

•আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না। পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো। স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না। কেননা আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবিকা দেই। আর অশ্লীল কাজ ও কথার ধারে কাছেও যেয়ো না, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। আর আল্লাহ যার হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারন ছাড়া তাকে হত্যা করো না। [ সুরা আন’য়াম-১৫১ ]

•এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদি সে আত্নীয়ও হয়। আর আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর। [ সুরা আন’য়াম-১৫২ ]

•যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [ সুরা আন’য়াম-১৬০ ]

•আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন শুধুমাত্র বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। [ সুরা আন’য়াম-১৬২ ]

•সেদিন (প্রত্যেকের আমল) ন্যায় ও যথার্থভাবে ওজন করা হবে। অতঃপর যাদের (নেক আমলের) পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম ও কৃতকার্য হবে। [ সুরা আরাফ-৮ ]

Export Import.

Export Business এ এক্সপার্ট হোন মাত্র ৩ দিনে।
REDlovedigital বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন একটি কোর্স “Export Expert”

ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে এক্সপোর্ট বিজনেস়ে অন্যতম। সম্ভাবনাময় এই সেক্টরে সফল হতে আপনাকে জানতে হবে এই সেক্টরের সবকিছু । আর এই সবকিছু নির্ভর করছে আপনার স্কিল ও বিজনেস স্ট্রাটেজির উপর। সফলতার জন্য চাই সঠিক দিক নির্দেশনা আর প্রশিক্ষণ। এখন ঘরে বসেই এক্সপোর্ট বিজনেসে হয়ে যান এক্সপার্ট।

®কি কি শিখবেন এই কোর্সে?

International market research and analysis.
International Market development process
How to find a global buyer for Export business
International Product Development process
Shipment Process
Overall commercial activities and documentation
International Payment method
LC/ DA / DP /PRC
Foreign exchange
CNF Management
Freight forwarding management
VAT Customs
Shipping line
সহ আরো অনেক কিছু।

📞কোর্সে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য কল করুন –

Website – www.redlovedigital.com