ট্রেড লাইসেন্স কী? ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে ?
ট্রেড লাইসেন্স কী?
অনলাইন ই-ট্রেড লাইসেন্স করবেন কীভাবে?
ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক। প্রশু হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে করবেন ? সাধারণত সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা , জেলা ও উপজেলা পরিষদ থেকে এটি প্রদান করা হয়। শুধু ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করা যায়। ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে না জানার কারণে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন। আমরা জানব –
ট্রেড লাইসেন্স কীঃ ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ হলো ট্রেড লাইসেন্স। এটি ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট ।আমাদের দেশে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী আছেন, যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। ব্যবসার লাইসেন্স মানে হিচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র । তাই আপনার বৈধ ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে ?
১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ ত্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তাকে অবশ্যই কোনো না কোনো ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার পূর্বে সিদ্ধান্ত নিনঃ
যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের জন্য ব্যবসার অবস্থান নির্ধারণ এবং ব্যবসার প্রকৃতি নিরূপণ। আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন করুন। যদি আপনার ব্যবসার অবস্থান সিটি করপোরেশন এলাকা যেমন , ঢাকা , চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর,ময়মনসিংহ কিংবাবরিশালে হয় তাহলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। যদি আপনার ব্যবসার অবস্থান কোনো পৌর এলাকায় হয়ে থাকে, তাহলে ওয়ি এলাকার পৌর কর্তৃপক্ষ হতে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে সংগ্রহ করতে হয় ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরম।
ট্রেড লাইসেন্স পেতে হলে নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরণ করতে হবেঃ
ধাপ ১ঃ নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
ধাপ ২ঃ প্রতিষ্ঠান /কারখানা / কোম্পানি লিমিটেড হলে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৩ঃ প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান / কারখানা কোম্পানির পার্শ্ববর্তী অবস্থান / স্থাপনার বিবরণসমূহ নকশা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৪ঃ প্রতিষ্ঠান / কারখানা / কোম্পানির পার্শ্ববর্তী অবস্থান / স্থাপনার মানচিত্রের অনাপত্তিনামা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৫ঃ কারখানা /সিএনজি স্টেশন / দাহ্য পদার্থের ব্যবসার ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর / ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র / অনুমতিপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৬ঃ আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৭ঃ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার নন – জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৮ঃ প্রতিষ্ঠান প্রেস / পত্রিকা হলে ডিক্লারেশনপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
ধাপ ৯ঃ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানটি নিজের হলে সিটি করপোরেশনের হালনাগাদ ট্যাক্সের রশিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ায় চুক্তিপত্র /রশিদ আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
যাবতীয় কাগজপত্র দাখিলের পর করপোরেশনের ইন্সপেক্টর প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করার পর নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি আদায় করে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করবেন । ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নবায়ন করতে হয়।
ধরন বা ক্যাটাগরি নির্বাচনঃ
ব্যবসা শুরু করতে চাইলে আপনাকে ব্যবসার ক্যাতাগরি নির্বাচন করতে হবে। আপনি যদি ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন করেন তাহলে পরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। ২০১৬ সালের গেজেট অনুযায়ী ২৯৪ টি ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়। ভালোভাবে ব্যবসার প্রকৃতি বিবেচনা করে নির্ধারিত ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।
ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ সাধারণ ব্যবসার ক্ষত্রে (General business license) দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি , আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ৩০০ টাকার নন – জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পার্টনারশিপের অঙ্গীকারনামা / শর্তাবলি জমা দিতে হবে।
ফ্যাক্টরির / কারখানার ক্ষেত্রে ( Factory / factories in the case of a trade license) পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি।
প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি / কারখানার পার্শ্ববর্তী অবস্থান / স্থাপনার বিবরণসহ নকশা / লোকেশন ম্যাপ, প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি / কারখানার পার্শ্ববর্তীর অবস্থান / স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিয়ম – কানুন মেনে চলার অঙ্গীকারনামা ৩০০ টাকাএ জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত।
ই – কমার্স ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স
অনলাইন কমার্স ব্যবসার জন্য লাইসেন্স অবশ্যই করতে হবে। তবে আপনি যদি অস্থায়ীভাবে কিছুদিনের জন্য ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা করতে চান, সেক্ষেত্রে লাইসেন্স না করে ব্যবসা করা যেতে পারে। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে আপনি কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। বেশি অ্যামাউন্টের কোনো পণ্য অর্ডার পেলেও সাপাই করতে পারবেন না। কোনো প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বিভিন্ন ট্রেড বডিজ, চেম্বারের সদস্য হতে পারবেন না। ট্রেড লাইসেন্স আইন বা বিধিমালা শুধু একটি ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে। কোনোক্রমেই অন্য কোনো ক্যাটাগরির ব্যবসার জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে না। নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য নতুন আরেকটি ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে । একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু একটি ব্যবসার ব্যবহার করতে পারবেন। এটি কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।
ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স কী এবং কেন প্রয়োজন ?
উত্তরঃ নাম শুনে নিশ্চয়ই বুজতে পারছেন ট্রেড লাইসেন্স মানে ব্যবসার অনুমতি পত্র। আপনি যদি নতুন উদ্যেক্তা হয়ে থাকেন, দেশের আইন অনুসারে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনাকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। সেটাই ট্রেড লাইসেন্স। ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য।
প্রশ্নঃ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলতে কী বুঝায় ?
উত্তরঃ স্থানীয় সরকারকে বুঝায়। সাধারণত মেট্রো সিটিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় পৌর কর্তৃপক্ষ আর গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স করতে কী কী লাগে ?
উত্তরঃ খুব বেশি কিছু নয়। তিন কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, যদি একাধিক অংশীদার থাকেন তাহলে প্রত্যেকের তিন কপি করে ছবি। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি এবং যে বাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে বা অফিস রয়েছে তার বাড়িওয়ালার সাথে সম্পাদিত চুক্তির ফটোকপি। যে চুক্তিটি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত হয়েছে। এই তিনটি জিনিসা অতি দরকার। নিজের বাড়ি হলে হোল্ডিং কর পরিশোধের রসিদের ফটোকপি। আর বর্তমানে ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হয় অথবা সার্ভিস চার্জের রশিদ।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স খরচ কেমন ?
উত্তরঃ ব্যবসা অনুসারে ট্রেড লাইসেন্সের খরচ। যেমন, ঠেলাওয়ালার জন্য হয়তো ২০০ টাকা , আর আমদানি – রপ্তানির জন্য তা হয়তো ২ হাজার টাকা। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে ৫০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেট আছে। ই – কমার্সের যেহেতু কোনো ক্যাটাগরি নেই তাই সফটওয়্যার, আইটি বা জেনারেল সাপায়ার হিসেবে লাইসেন্স নিতে হয়। এজন্য সরকারি ফিস ৮৫০ থেকে ১৭০০ টাকা কিন্তু আপনার খরচ পড়বে কম – বেশি ৪ হাজার। আর কোনো ফার্মের সাহায্য নিলে ৫ হাজার। অন্য ব্যবসার জন্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্ধারিত ফি জেনে নিতে পারেন।
প্রশ্নঃ ই – কমার্স ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের খরচ কেমন ?
উত্তরঃ আমাদের ব্যবসায়িক তালিকায় এখনো ই – কমার্স যুক্ত হয়নি। এ ক্যাটাগরিতে এখনো লাইসেন্স দেয়া হয় না। তবে আইটি অথবা সফটওয়্যার ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নেয়া যেতে পারে। এজন্য দাপ্তরিক খরচ ১১ শ ‘ টাকা থেকে ১৫ শ’’ কিন্তু অন্যান্য খরচ যেমন সাইনবোর্ড ট্যাক্স, ফিজিক্যাল ভিজিট ট্যাক্স আর সংশ্লিষ্ট খরচ মিলিয়ে এটা ৪ – ৫ হাজারে গিয়ে ঠেকে।
প্রশ্নঃ কোথায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাবেন ?
উত্তরঃ আপনি সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ অফিস , সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাতে পারেন। তবে আজকাল অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম আছে যারা নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে এসব কাজ করে দিয়ে থাকে । নিজে ঝামেলা পোহাতে না চাইলে এসব ফার্মের হেল্প নিতে পারেন।
এরপর যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা। সব ব্যাংকে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এরপর ক্ষেত্রবিশেষে মুসক বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন দরকার হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি ফিস ১ থেকে ৫ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে কাজ করতে গেলে চার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। যাদের আমদানি – রপ্তানির ব্যবসা আছে তাদের আরো বেশি টাকা লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ ট্রেড লাইসেন্স আর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের মধ্যে পার্থক্য কী ?
উত্তরঃ ক। ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা ও পেশার অনুমতি আর কোম্পানি রেজিট্রেশন হলো ব্যবসা এনজিও সমাজসেবা প্রভৃতির জন্য ।
খ। ট্রেড লাইসেন্স একটা নির্দিষ্ট এরিয়ার কার্যালয় স্থাপনের জন্য আর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন সারা বাংলাদেশের জন্য ।
গ। ট্রেড লাইসেন্স হলো ব্যবসা করতে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন হলেও ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়।
ঘ। ট্রেড লাইসেন্স আপনি প্রতিষ্ঠানের যে নাম দেবেন তা আবার অন্য কেউ দিতে পারবে আর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করলে একই নামে আর কোনো ব্যক্তি কোম্পানি খুলতে পারবে না । যদি খোলে আপনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
ঙ। ট্রেড লাইসেন্সের খরচ ব্যবার ক্যাটাগরি অনুসারে আর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের খরচ কোম্পানি কত টাকা বিনিয়োগ করবে তার ওপর। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন খরচ ৩০,০০০ থেকে শুরু।
চ। ট্রেড লাইসেন্সের সাধারণ স্থানীয় ব্যবসার নিয়মনীতির ওপর চলে আর কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনে কোম্পানি গঠিত হয় কোম্পানি আইন অনুসারে। এর নির্দিষ্ট ফরমেট রয়েছে।
ছ। আলাদাভাবে পণ্য বা ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশনের জন্য ট্রেড মার্ক নিবন্ধন করতে হয়, যাতে সে নাম এবং মার্কটি অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে । যেমন, বাতা, কোকাকোলা এগুলো কেউ হুবহু ব্যবহার করতে পারবে না।
প্রশ্নঃ আমি ব্যবসা করি চট্টগ্রামে, কিন্তু কাস্টমার সব ঢাকায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় মাল
পাঠাতে হলে আমাকে কোথায় এবং কয়টা ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।
উত্তরঃ যেখানে আপনার অফিস বা ব্যবসার ঠিকানা শুধু সেখানেই ট্রেড লাইসেন্স নেবেন। তবে ঢাকায় যদি আরেকটা অফিস নেন তখন এখানে আরেকটা ট্রেড লাইসেন্সের প্রশ্ন আসবে। কিন্তু ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স কোনো বাধা নয়।
প্রশ্নঃট্রেড লাইসেন্স করার পর কোনো প্রয়োজনে নাম – ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় কি ?
উত্তরঃ ফি প্রদান ও এফিডেফিটের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য পরিবর্তন করা যায়।
প্রশ্নঃ একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি বিভিন্ন ধরনের পণ্য বা ব্যবসা করা যায় ?
উত্তরঃ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা একটা ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে করা যায় না। তবে বিভিন্ন রকমের পণ্য তৈরি করা যায়। সেক্ষেত্রে ক্যাটাগরি হবে জেনারেল সাপটায়ার ।
প্রশ্নঃ একটি ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ কতদিন ? মেয়াদ পূর্ণ হলে কী করতে হবে ?
উত্তরঃ একটি ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক অর্থ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন ফি দিয়ে আপনি নবায়ন করে নিতে পারবেন। তবে নবায়ন না করলে যে আপনার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়। বিষয়টা হলো নবায়ন করলে আপনার একটা আইনগত বৈদতা থাকল। অন্যদিকে নবায়ন না করলে পরে জরিমানাসহ নবায়ন করতে হয়। তখন অনেক কষ্ট হয়। কারণ জমে গিয়ে টাকার অ্যামাউন্টটা তখন হয়ে যায়। তাই প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করা ভালো।
প্রশ্নঃ এক এলাকার ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি অন্য এলাকায় ব্যবসা করা যায় ?
উত্তরঃ আইনগতভাবে যায় না । তবে বাংলাদেশে এটা কমন বিষয়, আবাসিক এলাকায় যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। তাদের কারো ঠিকানা সে এলাকায় নয়। সাধারণত সিটি কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকার নামে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে না বলে তারা অন্য ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে থাকেন।
অনলাইনে ই – ট্রেড লাইসেন্স করবেন কীভাবে ?
ই – ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করতে পারেন অনলাইনে।আবেদন করার জন্য সরকারি নিবন্ধন সাইটে গিয়ে ফরম ফিলাআপ করতে হবে। আপনি কিভাবে আবেদন করবেন তা বিস্তারিত জানার জন্য ই – ট্রেড লাইসেন্স নির্দেশিকা দেখতে পারেন। ই – ট্রেড লাইসেন্স নিবন্ধন করতে পারবেন নিচের লিংকে http://www.etradelicense.gov.bd
নিজেই বানিয়ে নিন ই – টিন
করদাতা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ই – টি আইএন করদাতা হিসেবে ( e – TIN ) রেজিট্রেশন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে । এ পদ্ধতিতে কয়েকটি সহজ ধাপ পেরোনোর মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন ১২ ডিজিটের একটি নতুন টি আইএন। বর্তমানে যাদের টি আইএন আছে , তাদেরও নতুন পদ্ধতির টি আইএন এর জন্য রি – রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র , মোবাইল ফোন নম্বর ও কোম্পানির ক্ষেত্রে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস ( RJSC ) – এর নিবন্ধন নম্বর প্রয়োজন হয়। আপনি যদি সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন অথবা ব্যবসায়ী হন এবং আপনার বার্ষিক আর যদি আড়াই লাখ টাকার অধিক হয় তবে আপনাকে অবশ্যই ই – টি আইএন নাম্বার গ্রহণ করে নিবন্ধিত হতে হবে।
আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ – এর আওতায় আয় নূন্যতম করমুক্ত আয়ের সীমা ( ২ লাখ ৫০ হাজার ) অতিক্রম করেলে রিটার্ন দাখিলের জন্য একজন করদাতাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অন্তর্গত কোনো আয়কর কমিশনারের অধীনস্থ সার্কেল থেকে ১২ ডিজিটের ই – টি আইএন অর্থাৎ ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর নিতে হয়। এটা আয়কর নিবন্ধনের আধুনিক সংস্করণ। একজন করদাতাকে আয়কর নিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে করদাতা হিসেবে সনাক্ত করা হয়। নিবন্ধিত করদাতা বছর শেষে রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে বার্ষিক আয় ব্যয় ও সঞ্চয় বর্ণনা করেন। একজন করদাতা সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে ই – টি আইএন নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। অনলাইনে ই – টি আইএন নিবন্ধনের প্রক্রিয়া জানানো হলো। অনলাইনে ই – টি আইএন রেজিস্ট্রেশনের জন্য যা প্রয়োজন –
প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকঃ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর / পাসপোর্ট নম্বর, পূর্বের ( রি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে )
অপ্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক : অভিভাবকের ১২ ডিজিটের টিআই এন (নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনকৃত ), সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পূর্বের টিআই এন (রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
প্রাপ্তবয়স্ক বিদেশি নাগরিগ :পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা নম্বর, ডিজিটাল ফরমেটে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পূর্বের টিআই এন ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
অপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক : নিজের এবং অভিভাবকের পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা নম্বর, ডিজিটাল ফরমেটে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, পূর্বের টিআইএন ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
লিমিটেড কম্পানি : কোম্পানির ইনকরপোরেশন নম্বর ,তারিখ পূবের টিআইএন ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
রেজিস্ট্রার্ড ফার্ম : রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)- এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন তারিখ, অংশীদারদের ১২ ডিজিটের নম্বর টিআইএন ( নতুন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনকৃত ) , পূর্বের টিআইএন ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
আন – রেজিস্টার্ড ফর্ম : অংশীদারদের ১২ ডিজিটের টিআইএন (নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনকৃত ), পূর্বের টিআইএন ৯ ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে)
ধারা ২(২০) অনুযায়ী গঠিত অন্যান্য কোম্পানি : করদাতার প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ফ্যাক্স নম্বর ও ই – মেইল আইডি ( রেজিস্ট্রেশন ক্ষেত্রে ), পূর্বের টিআইএন ( রি – রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে )
নতুন পদ্ধতিতে ই – টিআইএন রেজিস্ট্রেশনের শুরুতে প্রত্যেককে অবশ্যই অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য www.incometax.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
